খুব হাগা পেয়েছিল ভাই

আমাদের মধ্যে সৈকত বেশ সিনেমা পাগল ছিল, ওর থেকে রোগ টা আমারও হয়েছিল একেবারে, এখন সারেনি। সিনেমা দেখা যে কি মোক্ষম জিনিস যে না দেখেছে সে কি করে বুঝবে? সৈকত তো সিনেমার এত পাগল ছিল যে সেমিস্টারের মাঝেও সিনেমা দেখতে চলে যেত।

– ব্যারাকপুরে অতীন্দ্রতে মুঝসে দোস্তি করোগে এসছে, যাবি নাকি দেখতে?

– ভোম্বল মারা সিনেমা সিনেমা করেই মরল।

বলতে ভুলেগেছিলাম, খুড়ো “ব” কে “ম” বলত।

– কেপি তো শালা যাবেনা, বৌদি যাবিনাকি?

– না, *** ঐসব তোমরা যাও, আমায় কাপড় কাচতে হবে।

– ঘাই কই?

– মারাটা ঘুমাচ্ছে।

– ডাক মালটাকে, কল্যাণী সীমান্ত টা ধরতে পারলে ভাল হয়।

অতীন্দ্র সিনেমা হলটা বেশ ভাল, ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে বেরিয়ে, এক গ্লাস লস্যি খেয়ে ডান্দিকে হাঁটা দিলাম আমরা তিনজন। হলের বাইরে লোকে লোকারন্য, কাছে গিয়ে দেখি সবাই ব্ল্যাকার, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাছি মারছে সব।

– বিশ কা চালিশ, বিশ কা চালিশ।

বাঙ্গালী হও বা গুজরাতি, এই কথাটা হিন্দিতে না বললে ব্ল্যাকার রা ঠিক জাতে ওঠেনা। কাউন্টারে তেমন লাইন নেই, ওখান থেকেই টিকিট কেনা যাক। ঠিক সিনেমা শুরু হবার ১০ মিনিট আগে,

– বিশ কা দশ, বিশ কা দশ।

– তোমরা মারা ফালতুতে তিরিশ টাকা গচ্চা দিলে, দাঁড়িয়ে থাকলেই হত।

– হ্যাঁ, তোর বাবা এসে তো বলে গেছিল, ব্ল্যাকে কম দামে টিকিট পাওয়া যাবে।

– নাতোকি? তোমার বাবার মত সোনাগাছি তে লাগাচ্ছে তো না।

সিনেমা শুরু হল, ওদিকে আমারও পেট গুড়গুড় শুরু, কোনরকমে ঠেকিয়ে আছি, সিনেমা ছেড়ে যেতেও পারছিনা, আবার চাপতেও পারছি না। বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হলনা বটে, কি একটা  গান শুরু হল, আমিও সিট থেকে জাম্প।

– খুড়ো সর।

খুড়ো কে ধাক্কা দিয়ে, বাইরে বেরিয়ে সোজা বাথরুম, ঢোকার আগেই দেখে এসছিলাম কোথায় আছে। আর সেই বাথরুমের কন্ডিশন, কি আর বলব, রেলে ট্র্যাকে যারা প্রাতঃক্রিয়া করে তারা বোধহয় বেশী পরিস্কার বাথরুম পায়। প্যানটা হলুদ হয়ে গেছে, কতদিন জল পরেনি কে জানে। বাথরুমে জল আছেকিনা তাও জানিনা, সেসব ভাবার সময়ও অবশ্য ছিলনা, বসার সঙ্গে সঙ্গে ভড়ড়ড়ড়!!! ঠিক বাঁধের দরজা খুললে যেমন নদীর জল বেরয়। ৩০ সেকেন্ড পরে বুঝলাম যে এইখান থেকেও সিনেমার ডায়ালগ শোনা যাচ্ছে, গানটা তখনো চলছিল।

অপকর্ম শেষ, বাথরুমে জলও আছে, বাঁচা গেল। গানটা শেষ হয়ে গেছে শোনা যাচ্ছে, এমনিতেই তো কেউ জল দেয়না দেখলাম, আমিও জল না ঢেলেই সিনেমা দেখতে ছুটলাম।

– কোথায় গেছিলি মারা?

– হাগতে।

– দেখলি ভোম্বল, বললাম না, মালটার হাগা পেয়েছিল।

– আঃ চুপকর খুড়ো, সিনেমাটা দেখতে দে।

– মালের সিনেমা, তার মালের দর্শক।

****

 

ব্যারাকপুরে এসছি, আর দাদা বৌদির বিরিয়ানী না খেলে চলে? বিরিয়ানী টিরিয়ানী খেয়ে যখন ট্রেনে উঠতে যাব, তখন অফিস ফেরতার বেদম ভীড়, কোনরকমে একটা রাণাঘাট লোকাল পেয়ে চেপেচুপে উঠলাম। শীতকাল, দরজার কাছে বেদম ঠান্ডা, কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে, আসতে আসতে ভিতরে যেতে থাকলাম, আমি আর খুড়ো, সৈকত কিছুতেই ভিতরে আসবে।

– না আসুক মারা, আমরা যাব, কতক্ষণ মাল ছিঁড়ে এখানে দাঁড়িয়ে থাকব?

– খুড়ো, নৈহাটি ঢুকছে, তৈরি থাক, সিট দখল করতে হবে।

– তুই চিন্তা করিসনা মারা, আমি ঝাঁপিয়ে পড়ব।

খুড়োর বদৌলতে বেশ একখানা, জানালার ধারে সিট পাওয়া গেছে, কিন্তু শীত করছে এই যা।

– সৈকত মারাটা আসছেনা কেন বলত?-

– কেজানে?

– মারাটা ঘামছে কেন?

– হার্ট অ্যাটাক করছে নাকি?

– ভোম্বল তোমার কি বুকে ব্যাথা করছে?

ভোম্বল ক্রুর দৃষ্টিতে আমাদের দিকে এক ঝলক দিলো ব্যাস,

– মাল ছেঁড়া গেছে, বাদাম কেন ঘাই।

– ভোম্বল বাদাম খাবি নাকি?

– গররররররর

– ছাড়, আমরাই খাই।

 

*****

কল্যাণী স্টেশন আসতেই, আমাদের ফেলে, ভোম্বল দে ছুট, ছুট ছুট ছুট।

জীবনের সবটাই জুড়ে বুঝি শুধু ছুট,

স্কুলব্যাগ পিঠে ছুট, কৈশোর রংরুট,

যৌবন একছুটে বুড়িছুই সাদাচুল দলছুট।

না ব্যাকগ্রাউন্ডে এই গানটা বাজছিল না, তবে এই গপ্পটা নিয়ে ছবি করলে আমি এই গানটা অবশ্যই রাখতাম।

কিন্তু শালা ভোম্বলটা পালাচ্ছে কেন রে বাবা?

পালাচ্ছে, পালাচ্ছে, পালাচ্ছে |
বই পালাচ্ছে, স্কুল পালাচ্ছে |
পাড়ার মোড় ছেড়ে,
তেপান্তরের মাঠ পালাচ্ছে হুগলি সেতু ধরে |
বন পালাচ্ছে, গাঁ পালাচ্ছে,
দেশ পালাচ্ছে দেশে |
নিরুদ্দেশ? সেও পালাচ্ছে আর এক নিরুদ্দেশে |

হ্যাঁ, এই গানটাও রাখা যায় কি বলেন?

– খুড়ো, ভোম্বল পালাচ্ছে কেন?

– তুমিও দৌড়ও মারা, টি.টি ধরেছে মনে হয়।

ও হ্যাঁ আমরা তো টিকিট কাটিনি। (বিধিসম্মত সতরকীকরনঃ আমরা কেউই বিনাটিকিট এ ভ্রমণ সমর্থন করিনা, এবং কাউকে করতে প্রলোভিত ও করছি না)।

স্টেশন থেকে বেরিয়েই ঝাঁপ দিয়ে, এক রিক্সায় উঠল ভোম্বল, জাম্প করে আমি ওর পাশে আর খুড়ো কোলে।

– খুড়ো কোল থেকে নাম শালা, জোড়ে হাগা পেয়েছে।

ওহরি, তাই বল, এতক্ষণে আমি মজা পেয়েছি, পুরো সিনেমা হলে আমায় নিয়ে হাসাহাসি করছিল মালদুটো। রিক্সা থেকে নেমে ভোম্বল আবার ছুট,

– খুড়ো ভাড়া দে, আমি ভোম্বলের পিছনে ছুট লাগালাম মজা দেখার জন্য।

ব্রেকিং নিউজঃ বাথরুমের দরজা বন্ধ ভিতর থেকে।

– বাথরুমে কে?

– আমি সঞ্জয়।

– কি করিস, জলদি কর, হাগা পেয়েছে সেই ব্যারাকপুর থেকে।

– দাঁড়া, কাপড় কাচ্ছি, শেষ হলেই বেরোবো।

– কাপড় তোমার বাপকে কাচতে বল শুওড়ের বাচ্চা, বেরহ *****।

আস্তে আস্তে বৌদি বাথরুমের দরজা খুলে,

– কি হলটা কি, এত হট্টগোল কেন?

– কোন **** বাথরুমের দরজা বন্ধ করে কাপড় কাচে?

বলে বৌদিকে টেনে বেরকরে সৈকত ভিতরে ঢুকে গেল। বাথরুমের দরজা টা ক্যাঁচ করে বন্ধ হয়ে গেল, ভিতরে বাজ পড়ছে, মেঘ ডাকছে। আমরা বাথরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি, কতক্ষণে বেরয় মালটা দেখার জন্য, ও হ্যাঁ কে.পি খাটে বসে পড়ছে আর কান চুলকাচ্ছে।

প্রায় আধঘন্টা পড়ে ঝড় বৃষ্টি থামিয়ে ভোম্বল মহাশয় বেরোলেন।

– খুব হাগা পেয়েছিল ভাই…

মুখে একগাল প্রশান্তির হাসি।

 

You can follow me on Twitter, add me to your circle on Google+ or like our Facebook page to keep yourself updated on all the latest from Photography, Technology, Microsoft, Google, Apple and the web.

 

 

Advertisements

2 Comments Add yours

  1. Kamal Paul says:

    Darun hoache …. ro chai ei rakom mojar ghatona …. 🙂 🙂

  2. Samyak Chatterjee says:

    Asadharan. Jeo kaka

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s