জয় গুরু

– আর বলিসনা ভাই, এরম অপমান জীবনেও হইনি।

– কেনরে কি আবার হল?

– সারারাত হালিশহরের গঙ্গার ধারে পার্কে রাত কাটিয়েছি ভাই।

– সেকি কেনোরে?

– বেদান্ত ওর মেস থেকে বের করে দিল, কি আর করব?

বেদান্ত ছেলেটি ভাল, কিন্তু একটু ক্ষ্যাপা টাইপের, আমাদের মেস এ ওর নাম দিয়েছিল সবাই ক্র্যাক। এ গল্পটা যখনের তখনও বেদান্ত আমাদের মেস এ আসেনি, বাঘমোড়ের কাছে এক কাকুর বাড়ীতে থাকত। খুব গোছান ছেলে ছিল সে, ওর সঙ্গী একটা ট্রাঙ্ক, ট্রাঙ্কে জামাকাপড়, বই খাতা, দাড়ি কামানোর সরঞ্জাম, আর কিছু ভগবানের ছবি, ও হ্যাঁ এক গুরুর ছবিও থাকত। সেই গুরুর আবার আশ্রম ছিল হালিশহরে, সেই সুত্রেই ও প্রথমে বাঘমোড়ে এক কাকুর বাড়ীতে থাকত। বেদান্ত খুবই ভগবান ভক্ত, আর সেই গুরুরও বেশ ভক্ত ছিল, কথায় কথায় জয়গুরু বলাটা ওর অনেকগুলি অভ্যেসের অন্যতম।

জয়, যাকে কিনা বেদান্ত বাড়ী থেকে বিতাড়িত করে, ছিল পাক্কা কম্যুনিস্ট, ভগবান টগবান তেমন মানত না, আদর করে ভগা বলেই ডাকত, অবশ্য দুর্গা ঠাকুরের প্যান্ডেলে গেলে একবার টুক করে প্রণাম ঠুকে দিত, চারিদিকে বিশেষ কেউ না থাকলে। জয় বাড়ীতেই থাকত, কাচরাপাড়া তে, সেমিস্টারের পড়ার জন্য কাছে কোন মেস খুঁজে গ্রুপ্সটাডী করতে যেত, আর বাকী গাঞ্জা খেতে ছেলেদের হোস্টেলে যেত, এগুলো ঠিক বাড়ীতে করা যায়না কিনা। এরকমই এক শীতের রাতে, সেমিস্টারের আগে, জয় গেছিল বেদান্তের সাথে গ্রুপ্সটাডী করতে।

গ্রুপ্সস্টাডী তে যেমন হয়!!!

CE_Study_Group_by_Glimare

বেশ কিছুক্ষণ পড়াশুনো চলার পরে শুরু হয় কারেন্ট ও নন কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স নিয়ে কথাবার্তা। বেদান্তের মতে ইহজগতে সবকিছুই তার ইচ্ছায় চলছে, চলছে বললে ভুল হবে, সব হয়ে গেছে, everything is scripted and already happened, we are just playing our roles, বোঝো, সবকিছুই হয়েই আচ্ছে, এই যে আমি বসে বসে টাইপ করছি, ব তুমি বসে বসে ব্লগটা পরছ, আর আমি, লেখাটার লিঙ্ক একবার ট্যুইটার আর ফেসবুকে দিয়ে, ব্লগ এ এসে বারবার রিফ্রেশ করছি দেখতে যে কত ভিসিটর আসছে, সে সবই হয়ে গেছে, আগেই, আমরা খালি খালি রিপ্লে করে ক্যাসেট টা চালাচ্ছি এই আর কি। কিছু বোঝা গেল? আমিও বুঝলাম না, এর থেকে ম্যাট্রিক্স সিনেমাটা প্রথমে যখন দেখেছি তখন বেশী সহজ লেগেছিল।

তো এইসব ভাট জয় শুনবে কেন? সে আবার পাক্কা কম্যুনিস্ট বললাম যে! তার মত একটাই,

– ভাই এইসব ভগা টগা বলে কিস্যু নেই এসব তোদের সব বানান কথা, আর তোর এই যে হয়ে গেছে কনসেপ্ট, এত ভাই আমার কেন আমার দাদুর মাথাতেও ঢুকবেনা, যত্তসব চুলবুল (ভদ্র ভাষায় লিখলাম আর কি)। তোদের ভাই চুলের ভগা আর চুলের জগা…

বলে জয় বিড়িটায় শান্তিতে টান দিতে যাবে, তখনই,

– জয় আর পড়ব না, বই খাতা গুছিয়ে এবার বাড়ী যা।

– বাড়ী যাব কিরে, এ তো সবে শুরু হল…

– না, আর পড়তে হবেনা, আমার কথা বিশ্বাস না করলে, আমার সাথে থাকতেও পড়তেও হবেনা, বেরো এখন তুই।

– ভাই এখন বাড়ী গেলে তো বাবা মা খিস্তি দিতে ভূত ভাগিয়ে দেবে, বলবে পড়তে গিয়েও ঝামেলা করে এসছিস, তোকে এবার থেকে কোথাও পড়তে যেতে হবেনা, রাত দুটো বাজে।

– আমি জানিনা, নাস্তিক চুলবুল আমি দেখতে পারিনা…

জয়ের মুখের উপর বেদান্ত দরজাটা বন্ধ করে দিল। বেচারা জয়, এত রাতে যাবে কোথায়?

– বল ভাই, রাত দুটো বাজে, তখন যদি বাড়ী ফিরিতো সম্মান টা কোথায় থাকবে? বাড়ীতে বলবে বন্ধু তাড়িয়ে দিয়েছে তাই বাড়ী ফিরে এসছি, এদিকে আমি থাকবনা যেনে, ভাইও কিছু বন্ধু নিয়ে বাড়ী এসে আড্ডা দিচ্ছে।

– বাড়ীতে বলেও এলাম যে এখানে ঘুমিয়ে সকালবেলায় বাড়ী ফিরব। কি আর করি, এওসব সাতপাঁচ ভেবে ঠিক করলাম, ধুর শালা, হালিশহরের গঙ্গার ধারে যে নতুন পার্ক করেছে সেখানে গিয়ে শুয়ে থাকি।

– ওই শীতের রাতে?

– কি করব ভাই, নিজের ইজ্জত, বেদান্তের ইজ্জত সব তো আর বাড়ীতে ধুলোয় মেলাতে পারিনা।

– এরপর দেখা হয়েছিল ওর সাথে?

– হু, কথা বলছে না চুলটা, আমিও বলিনি মারা, বিদেশ, জাপানীরা এখানে মেস নিচ্ছে, সামনের বার থেকে ওদের ওখানেই যাব।

You can follow me on Twitter, add me to your circle on Google+ or like our Facebook page to keep yourself updated on all the latest from Photography, Technology, Microsoft, Google, Apple and the web.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s