ফেক হাসিনা আর বলদা জিয়া র গোপন কথোপকথন

আংলাদেশের কাকা শহর, রাত তখন প্রায় বারোটা। শহরের ব্যস্ততম এলাকা ফুলশনের একটি বাড়ীতে ঝনঝন করে বেজে উঠল টেলিফোন। গৃহকত্রী একটু পানে মত্ত ছিলেন, ওঠার বিশেষ ইচ্ছে ছিলনা, কিন্তু এসময় চাকর বাকরেরা অন্য জগতে, অপারগ হয়ে তাকেই উঠতে হল।

– হ্যালো, কে বলছেন?

– হ্যালো, বলদা আপা?

– বলছি, কে ফেকু?

– জি আপা, শরীর ভালো আছে তো?

– আর শরীর, থাকলেই বা কি আর না থাকলেই বা কি?

– কি বলছেন আপা, আপনার শরীর খারাপ হলে আমরা দুজনে মিলে সাপলুডো খেলব কি করে?

– থাম তুই, নিজেতো চেয়ারে বসে আছিস, আমায় ঢাল বানিয়ে, আজ আবার কি হল এত রাতে ফোন?

– শোনেননি কি হয়েছে আবার? আরেকজন নাস্তিক খুন।

– সে বেশ হয়েছে, হিন্দু মারতে মারতে তো প্রায় শেষ, এবার কি করবে? মানুষখেকোদের রক্ত লাগবেন?

– রক্ত বলবেন না আপা, রক্ত খাওয়া হারাম।

– তুই বল, এক নাস্তিক মরেছে, তো আমায় কেন ফোন করলি?

– আপনি একটু বলেন না, এসব বন্ধ করতে।

– কেন তুই বলছিস না কেন? মোল্লাদের ভয়ে? তুইতো আবার ধর্ম নিরপেক্ষ, তোর আবার কি চাপ?

– আহা, এখন আর নিরপেক্ষ হয়ে লাভ নেই, হিন্দুতো দেশ থেকে উজাড়, এখন নিরপেক্ষতা নিয়ে কি ধুয়ে খাব? আমি এসব শুধু দেখাই বড়দা কে দেখানোর জন্য, আপনি তো সবই বোঝেন। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে যুবসমাজ নিয়ে, ফেটে পরলেই মুস্কিল।

– হ্যাঁ, বড়দাতো তোর জন্য খুব খুশী, তুই চেয়ারে বসলেই ভাবে সজীবের মেয়ে, এবার সব ওদের হাতে, তুইযে দুমুখো সাপ সেটাত আর জানেনা।

– থাকনা আপা ওসব কথা, আপনার মোল্লাদের বলেন না, কিছুদিন এসব বন্ধ করতে, এখন আর আন্দোলন সামলাতে ইচ্ছে করছেনা, কিছুদিন ছুটি চাই, নাহয় আপনার ভাতা কিছু বাড়িয়ে দেব।

– আগে কথা দে বাড়াবি, তোকে ভরসা নেই, আমি রেকর্ডার টা চালিয়ে দিচ্ছি।

– আরে না না আপা, আমি কথা দিচ্ছি।

– শোন, এসব নিয়ে মাথা ঘামাস না, ওই নাস্তিক টাস্তিক মরলে কারোর কিছু যায় আসেনা, তুইতো ফেসবুক ট্যুইটর খুলে দিয়েছিস অবাধে, আর আমাদের ফতোয়াও চলছে অবাধে, জন মগজ ধোলাই চালাচ্ছি আমরা, চুপ করে খেলা দেখে যা।

– কিন্তু প্রতিবাদ…

– ধুর মড়া, কিসের প্রতিবাদ, বিষ ছড়িয়ে গেছে, যারা শিক্ষিত তারা এদেশে নেই আর আমাদের ভোটও দেয়না।

– তা যা বুলেছেন আপা, আপনার সত্যি কি উচ্চবংশ!

– দাঁড়া কথার মাঝে ফুট কাটিস না, মনে রাখবি যতদিন সমস্যা আছে, ততদিন আমরা আছি, দেশে সমস্যা না থাকলে কি নিয়ে লড়বি? কি নিয়ে ভোট চাইবি, তাই সমস্যা তৈরি করতে হয়, বহুদিন ধরে। ছুড়ি কাঁচি শিক্ষিত ডাক্তারের হাতে না গিয়ে অশিক্ষিত লোকের হাতে গেলে কি হবে?

– যথেচ্চার…

– একদম, সাধারন মানুষ কসাই বনে যাবে, মুক্তাঞ্চল। সেরকম ই এই ফেসবুক ট্যুইটর আমরা অশিক্ষিত লোকেদের হাতে তুলে দিয়েছি, দেখবি এরাই দেশ জ্বালাবে, আমাদের কিছু করতে হবেনা, ইস্যু এরা তৈরি করবে, আমরা ফায়দা লুটব, ধীরে ধীরে, সোনার ডিমা পাড়া হাঁস আমার সোনার দেশের সোনার ছেলেরা।

– ঠিক বলেছে আপা, আমদের বড়দা মেজদাও তো একি ভাবে যুদ্ধে মেতে আছে, বাশমীর নিয়ে, সমাধানও করেনা, যুদ্ধও থামেনা, একি ইস্যুতে জনগণ গত চল্লিশ বছর ধরে ভোট দিয়ে যাচ্ছে।

– দেখলি তো? দেখে শেখ কিছু।

– কিন্ত আপা, সবই বুঝলাম, তবে একটা ব্যাপার একটু খেয়াল রাখবেন, নাস্তিক মরে মরুক, ক্ষতি নেই, হিন্দু নাস্তিক যেন কম মরে, বড়দা আবার রাগ করে।

– ও আমার বড়দার আদরের বোন রে, মেজদা রাগ করেনা, মুসলিম নাস্তিক মরলে?

– ঠিক আছে, ৮০/২০ করে নিন, চলবে তো?

– তোর রাজত্ব, তোর কথা না রাখলে হয়? ডিল।

– ধন্যবাদ আপা, আপনার ভাতা দ্বিগুণ, গণ্ডমূর্খ জনগণ দীর্ঘজীবী হোক।

– আমিন।

You can follow me on Twitter, add me to your circle on Google+ or like our Facebook page to keep yourself updated on all the latest from Photography, Technology, Microsoft, Google, Apple and the web.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s