চাবি

সে ছিল এক নির্জন রাত, এক বাবা ও মেয়ে একটি গ্রামের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিল। মেয়েটির মা বর্দ্ধমানে চাকরী করেন। ডেঙ্গু হওয়াতে হাসপাতালে ভর্তি, তাঁকে দেখেই এরা ফিরছিলেন, মেয়েটির সামনেই পরীক্ষা। অন্ধকার রাস্তা, হঠাৎ ভয়ানক বৃষ্টি শুরু হল, গাড়ীর ছাদে বৃষ্টির ডং ডং আওয়াজে ভয় পেয়ে গেল মেয়েটি, শিলাবৃষ্টি মনে হয়।

হঠাৎ একটা বিকট শব্দ, আর তার সাথে গাড়ীটা যেন ভয়ঙ্কর ভাবে কেঁপে উঠল। কেউ একজন সামনে এসে গেছিল, তাকে বাঁচাতে গিয়ে কন্ট্রোল হারিয়ে বাম দিকে রাস্তার বাইরে একটা বড় পাথরে ধাক্কা মেরেছে গাড়ি টা।

বাবার ভয় হল মেয়েকে নিয়ে, প্রথমে সেটাই দেখলেন, নাঃ মেয়ে ঠিকই আছে। আশ্বস্ত হয়ে বাবা গাড়ির বাইরে গেলেন, কি হয়েছে দেখতে। সামনের দুটো টায়ারই গেছে, বামদিকের বাম্পারের অবস্থাও তথৈবচ।

– “আমরা নিশ্চয় রাস্তায় কিছুর ওপর দিয়ে গেছি, যার জন্য দুটো টায়ারই গেছে”, মেয়েকে বললেন ভদ্রলোক।

– “তুমি ঠিক করতে পারবে, না বাপি?” মেয়েটি ভয়ে কাঁপছে, রাত তখন একটা।

– “না, আমার কাছে একটা স্টেপ্নি তো আছে, কিন্তু এখানে দুটোরই বারোটা বেজেছে। ফোনেরও টাওয়ার নেই, সামনে গিয়ে দেখি যদি টাওয়ার পাই, তবে হেল্পলাইনে ফোন করে কাউকে ডাকি, নইলে অগত্যা শহরে গিয়ে  টোয়িং এর লোক নিয়ে আসতে হবে, তুই বস মা, আমি সামনে দেখে আসছি, শহরও বেশী দূর নয় এখান থেকে।”

– “ঠিক আছে বাপি”, ইচ্ছা না থাকলেও বলল মেয়েটি। “কিন্ত তাড়াতাড়ি এসো।”

ভদ্রলোক বুঝতে পারছিলেন যে মেয়ে ভয় পেয়েছে।

– “কোন ভয় নেই মামনি”, ধাক্কা মেরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ভদ্রলোক বললেন। “আমি এই যাবো, আর এই আসব।”

মেয়েটি দেখতে পেল, আয়নাতে বাবা আসতে আসতে, চলেছে, ছোট হয়ে আসছে, এবার বাবা মিলিয়ে গেল অন্ধকারে।

একঘন্টা হয়ে গেল, বৃষ্টি কমে গেছে, মেঘ সরে চাঁদও দেখা যাচ্ছে, “কিন্তু বাবা এখন এলনা। কি হয়েছে রে বাবা, এতক্ষন কি করছে?” এইসব ভাবতে ভাবতেই তার তন্দ্রা আসতে লাগল, হঠাত সে আয়নায় দেখল কে যেন আসছে গাড়ির দিকে, “নিশ্চয় বাবা।” কিন্ত যখন পিছন ঘুরে দেখল, তখন ছায়া মূর্তি আস্তে আস্তে মানুষের রূপ নিচ্ছে, “এ তো বাবা নয়”, একজন অচেনা লোক, কোঁকড়া চুল, বাম হাতে কি একটা বড় মত জিনিষ দোলাতে দোলাতে নিয়ে আসছে।

লোকটার কিছু একটা মতলব নিশ্চয় আছে। লোকটা আস্তে আস্তে কাছে আসছে, তারই জানলার দিকে, ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলার আগের মুহূর্তেই মেয়েটি দেখল, লোকটির হাতে একটা ভোজালি, চাঁদের আলোয় তার ধার গুলো চকচক করছে।

তাড়াতাড়ি ভয়ে মেয়েটে সবকটা দরজা লক করে দিয়ে লাফিয়ে পিছনের সিটে চলে নিচে লুকিয়ে পড়ল। একটু পরে সে আবার অল্প চোখ খুলে, পিছনের কাঁচ দিয়ে বাইরে দেখে, সেই লোকটি থমকে তাদেরই টায়ারের দাগ দেখল কিছুক্ষণ, তারপর সরাসরি যেন মেয়েটার দিকেই তাকিয়ে থাকল।

হঠাত লোকটি তার ডানহাত তুলল, মেয়েটি ভয়ে চেঁচিয়ে উঠল, লোকটির ডান হাতে তার বাবার কাটা মাথা।

মেয়েটি চেঁচাতেই থাকল ক্রমাগত, সে কিছুতেই নিজেকে থামাতে পারছিল না। মেয়েটির হার্টবিট এত বেড়ে গেছে যে এক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যাবে, কাঁদতে কাঁদতে সে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। চোখ বুজেও সে দেখতে পারছে তার বাবার মুখ, কি যন্ত্রনা তাতে, মুখটা খোলা, আর চোখ গুলো কোটরে ঢুকে গেছে যেন।

লোকটি গাড়ির কাছে এসে, পিছনের জানলায় মুখ ঠেকিয়ে, বীভৎস দৃষ্টিতে মেয়েটিকে দেখছে। লোকটির গায়ে ছেঁড়া ফাটা জামা, চুলে কতদিন তেল পরেনি, চুল ভর্তি কাদা, মুখে একটা বিশাল কাটা দাগ।

লোকটা কিছুক্ষন চুপচাপ দাঁড়িয়ে মেয়েটিকে দেখতে থাকল, সেই ভয়ঙ্কর সুন্দর পূর্ণিমা রাতে, ঠিক একটা পাগলের মত। কিছুক্ষন পরে, সে তার বাম পকেট থেকে কিছু একটা বের করে আনল।

গাড়ির চাবিটা লোকটার হাতে।

 

 

You can follow me on Twitter, add me to your circle on Google+ or like our Facebook page to keep yourself updated on all the latest from Photography, Technology, Microsoft, Google, Apple and the web.

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s